বিসিএসে সবচেয়ে ভাল ক্যাডার কোনটি ? বিভিন্ন ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন

বিসিএসে সবচেয়ে ভাল ক্যাডার কোনটি ? বিভিন্ন ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন। 
বিসিএসের আবেদন ফর্ম পূরণের সময় একজন প্রার্থী যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন, তা হল কোন ক্যাডারটি তিনি ফার্স্ট চয়েস হিসেবে দিবেন। দ্বিধা নিরসনে অনেকেই বিভিন্ন ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চান। আজকের পোস্টে সে সম্পর্কেই আলোচনা থাকছে।
প্রথমত জেনে রাখুন, কোন ক্যাডারই নিরঙ্কুশ ভাল কিংবা মন্দ নয়। প্রতিটারই তুলনামূলক সুবিধা-অসুবিধার দিক রয়েছে। আপনার ব্যক্তিত্ব, চাওয়া,স্বপ্নের সাথে প্রতিটি ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধার দিকটি সমন্বয় করেই আপনি আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ ক্যাডার নির্বাচন করবেন। আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করতে আলোচিত কিছু ক্যাডারের ইতি নেতিবাচকতা সংক্ষপে তুলে ধরছিঃ
=>পুলিশঃ
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করে আপনিও হতে পারেন অনেক স্বপ্ন - কল্পনার সেই বাহিনীর একজন উর্ধবতন কর্মকর্তা।
সুবিধা:
. বিপন্ন মানুষকে সরাসরি সাহায্যের হাত বাড়ানো বিপদমুক্ত করার ক্ষমতা।
. অন্যান্য ক্যাডারের মতো মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার ভাতা। ৩.রেশনঃ জনের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত রেশন দেওয়া হয়।
. সার্কেল বা জেলার দায়িত্ব পেলে সুপরিসর- সুসজ্জিত বাংলো পাওয়া যায়। সম্প্রতি পুলিশের জন্য নতুন নতুন আবাসিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।
.প্রচুর বিদেশে প্রশিক্ষণ ভ্রমণের সুবিধা।
অসুবিধা:
. কাজের প্রেসার খুব বেশি। শুক্র-শনি বলে কিছু নেই, কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রে ঈদও করতে হতে পারে।
. ছুটি কম
. পদোন্নতি বিষয়ক জটিলতা বিদ্যমান। তবে আশা করা যায় শিগগির এই জটিলতা মিটে যাবে। 
=>প্রশাসনঃ
সুবিধা:
.এই ক্যাডারের দায়িত্ব মাঠ প্রশাসনে অন্য সব ক্যাডারের মধ্যে সমন্বয় সাধন। তাই সহজেই আপনি সবার মধ্যমণি হয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন।
. সচিবালয়ের উপসচিব তার উপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাবৃন্দের ৭৫% এই ক্যাডার থেকে নিয়োগ লাভ করেন।
. জনগনের সরাসরি সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চাইলে এডমিন ক্যাডারের বিকল্প নেই।
. অন্য সব ক্যাডারের মধ্যে এডমিন ক্যাডাররাই সর্বোচ্চ ফরেন ডিগ্রী অর্জনের সুযোগ পান। স্কলারশিপ প্রচুর।
. লজিস্টিক সুবিধা ভাল।
অসুবিধা:
. কাজের প্রেসার খুব বেশি। শুক্র-শনি বলে কিছু নেই, কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রে ঈদও করতে হতে পারে।
. ছুটি কম
. পদোন্নতি বিষয়ক জটিলতা বিদ্যমান। তবে আশা করা যায় শিগগির এই জটিলতা মিটে যাবে।
=>ট্যাক্সঃ
সুবিধা:
.একজন ট্যাক্স ক্যাডার কর্মকর্তা ' এসিসট্যান্ট কমিশনার অব ট্যাক্সেস ' পদে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন।
সরকারের কর রাজস্ব সংগ্রহ করাই তাঁদের দায়িত্ব।
.ঝামেলামুক্ত কিন্তু আর্থিক স্বাচ্ছন্দে যারা দিনাতিপাত করতে চান, চাকুরী জীবনের মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনকে হারিয়ে খুঁজতে যারা অনিচ্ছুক, তাদের জন্য ক্যাডার ভাল চয়েস হতে পারে।
.এই ক্যাডারে প্রমোশন গ্রোথ সন্তোষজনক। লজিস্টিক সুবিধা, যেমন গাড়ি ইত্যাদি পর্যাপ্ত।
অসুবিধা:
.উচ্চবিত্ত সমাজ আপনাকে যথেষ্ঠ সমীহের চোখে দেখলেও পুলিশ বা প্রশাসন ক্যাডারের মতো পাওয়ার প্র্যাকটিসের সুযোগ নেই।
.আয়কর রিটার্ন এর সময় খুব ব্যস্ত সময় পার করতে হবে, তখন প্রায়ই নাওয়া খাওয়া ভুলে যাওয়ার মতো অবস্থায় পড়তে হতে পারে।
.ঢাকার বাইরে পোস্টিং এর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
=>আনসারঃ
সুবিধা:
.অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় এই ক্যাডারের সদস্যরা অনেক নির্ঝঞ্ঝাট, চাপমুক্ত চাকুরী জীবন অতিবাহিত করতে পারেন।
.রেজিমেন্টাল লাইফ ( স্যালুট, ইউনিফরম, অস্ত্র) যাদের পছন্দ, তারা নিশ্চিন্তে এই ক্যাডারটিকে পছন্দ তালিকার ওপরের দিকে রাখতে পারেন।
.লজিস্টিক সুবিধা সন্তোষজনক।
.সার্বক্ষণিক গাড়ি বাসস্থান সুবিধা পাবেন।
.প্রমোশন গ্রোথ খুব ভাল।
অসুবিধা:
.উপরের দিকের পদসমূহে সেনাবাহিনীর অফিসাররা দায়িত্ব পালন করেন। তাই প্রমোশন একটা পর্যায়ে এসে আটকে যায়।
. বাহিনী পুলিশের মতো আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নয়।
=>নিরীক্ষা হিসাবঃ
সুবিধা:
.পুলিশ এডমিন ক্যাডারের মতো আইনপ্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও বেতনভাতা, পেনশন আর্থিক বিষয়াদি নিরীক্ষণের ক্ষমতা থাকায় অন্য সব ক্যাডাররাই এই কাডারকে সম্মানের চোখে দেখে থাকে।
. এই ক্যাডার খুব ভাল আবাসিক পরিবহণ সুবিধা পেয়ে থাকে, যা অন্য অনেক ক্যাডারের জন্যই ঈর্ষনীয়।
. কাজের ক্ষেত্রে অনৈতিক চাপ তদবির কমই ফেস করতে হয়।
.প্রমোশন খুব ভাল।
অসুবিধা:
. সাধারণ মানুষ এই ক্যাডারের কর্মপরিধি সম্পর্কে কমই অবগত থাকে। তাই প্রায়শ তাদেরকে বলে বুঝাতে হবে যে আপনিও একজন বিসিএস ক্যাডার।
. বিশেষ বিশেষ সময় ( যেমন জুন ক্লোজিং) ব্যস্ততা প্রচণ্ড রকম বেড়ে যায়।
. যেহেতু অন্যের ভুলত্রুটি ধরাই কাজ, তাই সবার কাছে এই ক্যাডার কাবাব মে হাড্ডি, প্রিয়পাত্র হবার সুযোগ কম।
=>পররাষ্ট্র ক্যাডারঃ
আপনি যদি বহির্বিশ্বে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আগ্রহী হন, পাশাপাশি কূটনীতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশের মাটিতে বিশেষ সম্মান লাভ করতে চান, তাহলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়ার বিকল্প নেই।  
সুবিধা:
. বিদেশে পোস্টিং পেলে কূটনৈতিক সুবিধা, বিশাল অংকের স্যালারির পাশাপাশি উপভোগ্য জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া যায়;
. আপনি যে দেশে কর্মরত থাকবেন,সেখানে নিজের পরিবার পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। আপনার পরিবারের সদস্যবর্গ কূটনীতিক না হয়েও কূটনৈতিক সুযোগসুবিধা পাবেন।
.আপনার সন্তান বিদেশে পড়াশুনা করে ছোটবেলা থেকেই বিশ্বনাগরিক হয়ে বেড়ে উঠুক, বাবা/মা হিসেবে আপনি তা নিশ্চয়ই চাইবেন।
.আপনি যেহেতু বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাই সরকার নিজের গরজেই আপনাকে বিশ্বজোড়া নামীদামী প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করাররার সুযোগ করে দিবে।
.এমনকি দেশে কর্মরত থাকলেও বিদেশে অনেক ট্যুর পাবেন।
অসুবিধা:
.খুব কম পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রচার হয়ে থাকে, তাই এই ক্যাডারে সুপারিশকৃত হওয়া অন্য সকল ক্যাডারের তুলনায় কঠিন।
.যেহেতু জনবল অনেক কম, কাজের চাপ অনেক বেশি;
.যাদের উন্নত, উপভোগ্য জীবনেই মন ভরে না, পাওয়ার প্র্যাকটিস করার বাসনাও জাগে, তাদের জন্য এই ক্যাডার নয়।
সবার জন্য শুভকামনা রইল।
#Shamim Anwar(ASP)  
Top of Form


বিসিএসে সবচেয়ে ভাল ক্যাডার কোনটি ? বিভিন্ন ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন বিসিএসে সবচেয়ে ভাল ক্যাডার কোনটি ? বিভিন্ন ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন   Reviewed by Admin on 13 September Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.